ডায়াবেটিক ফুট আলসারের কারণ
আলসার হলো ত্বকের একটি খোলা ক্ষত। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের পায়ের পাতায় আলসার হওয়া অত্যন্ত সাধারণ। এই রোগের জটিলতা—যেমন রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা এবং স্নায়ুর ক্ষতির কারণে পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া (নিউরোপ্যাথি)—এর ফলে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং তা সারতে অনেক সময় লাগে।
যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, যাদের ডায়াবেটিসজনিত কিডনি, চোখ বা হার্টের সমস্যা আছে, অথবা যারা অতিরিক্ত ওজন, অ্যালকোহল বা তামাক সেবন করেন, তাদের ফুট আলসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
ডায়াবেটিক ফুট আলসারের লক্ষণ
সাধারণত ত্বকের ক্ষত ব্যথার সৃষ্টি করে। কিন্তু ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতির কারণে পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়ার ফলে আলসার হলেও অনেক সময় কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। এর ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে আলসার শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে, অথচ প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসাই সবচেয়ে কার্যকর।
ব্যথা ছাড়াও অন্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মোজায় ক্ষতস্থান থেকে নির্গত তরল বা কষ লেগে থাকা। পুরনো এবং সংক্রমিত আলসার থেকে দুর্গন্ধও বের হতে পারে।
কীভাবে ডায়াবেটিক ফুট আলসার প্রতিরোধ করবেন?
ডায়াবেটিক ক্ষত প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো মূল রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা:
- সঠিক খাদ্যতালিক এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- অ্যালকোহল এবং তামাক বর্জন করুন।
- কখনও খালি পায়ে হাঁটবেন না।
- সঠিক মাপের জুতো পরুন যা ত্বকে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে না।
- প্রতিদিন হালকা সাবান এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে পা পরিষ্কার করুন যাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ না হয়।
যেহেতু অনেক সময় ব্যথা অনুভূত হয় না, তাই প্রতিদিন পা পরীক্ষা করে দেখুন কোথাও কোনো লালচে ভাব বা ছোট ক্ষত তৈরি হয়েছে কি না।
ডায়াবেটিক ফুট আলসারের চিকিৎসা
যদি পায়ের পাতায় আলসার হয়, তবে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এটি এমন কোনো ক্ষত নয় যা আপনি ঘরে বসে নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং ক্ষতটি সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ে।
আমাদের বিশেষায়িত ডায়াবেটিক ক্ষত চিকিৎসা পরিষেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- অফলুডিং (Offloading): হুইলচেয়ার, ক্রাচ বা বিশেষ জুতার মাধ্যমে ক্ষতস্থানের ওপর চাপ কমানো যাতে তা দ্রুত সারতে পারে।
- ডেব্রাইডমেন্ট (Debridement): ক্ষতস্থান থেকে মৃত চামড়া এবং টিস্যু অপসারণ করা।
- বিশেষ ড্রেসিং: ত্বকের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তাকারী বিশেষ ড্রেসিং এবং কোলাজেন সমৃদ্ধ ড্রেসিং ব্যবহার করা।
- ভ্যাকুয়াম অ্যাসিস্টেড ক্লোজার (VAC): নেতিবাচক চাপের মাধ্যমে ক্ষত সারিয়ে তোলার একটি আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি।
- ভাসকুলার পুনর্গঠন: রক্ত সঞ্চালন সচল করার অস্ত্রোপচার যাতে ত্বক সঠিকভাবে পুষ্টি পায়।
- ফ্ল্যাপ এবং স্কিন গ্রাফটিং: বড় ক্ষতের ক্ষেত্রে শরীরের অন্য অংশ থেকে টিস্যু বা চামড়া এনে ক্ষতস্থান ঢেকে দেওয়া।
আমাদের মাইক্রোসার্জারি টিম আপনার প্রাথমিক চিকিৎসকের সাথে সমন্বয় করে সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করতে কাজ করে।
