কব্জির হাড় ভাঙার মধ্যে স্ক্যাফয়েড ফ্র্যাকচার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় — প্রায় ৭০% কব্জি ফ্র্যাকচারই এই ধরনের। কিন্তু এর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এটি প্রায়ই সাধারণ এক্স-রেতে ধরা পড়ে না এবং রোগী ভুল করে ভাবেন যে শুধু মচকে গেছে। সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।
স্ক্যাফয়েড হাড়টি কোথায়?
কব্জিতে আটটি ছোট হাড় থাকে। স্ক্যাফয়েড বুড়ো আঙুলের দিকে কব্জির বাইরের অংশে থাকে। এই হাড়টি কব্জির নড়াচড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর রক্ত সরবরাহ বিপরীত দিক থেকে আসে, তাই ফ্র্যাকচার হলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং হাড় মরে যেতে পারে।
কীভাবে আঘাত লাগে?
- হাত সামনে রেখে মাটিতে পড়ে যাওয়া (সবচেয়ে সাধারণ কারণ)।
- সাইকেল, স্কেটবোর্ড বা খেলাধুলার দুর্ঘটনা।
- ফুটবল বা ক্রিকেটে হাতে বলের আঘাত।
কীভাবে বুঝবেন স্ক্যাফয়েড ফ্র্যাকচার হয়েছে?
- "অ্যানাটমিক্যাল স্নাফবক্স" তে ব্যথা: বুড়ো আঙুল ও কব্জির মাঝে ছোট একটি গর্তে চাপ দিলে তীব্র ব্যথা।
- কব্জি নাড়াতে বা ধরতে কষ্ট।
- হালকা ফোলা কব্জির বাইরের দিকে।
রোগ নির্ণয়
- এক্স-রে: প্রথম ধাপ, কিন্তু ২০% ক্ষেত্রে প্রথমে ফ্র্যাকচার দেখা যায় না।
- MRI: সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য — ফ্র্যাকচার ও রক্ত সরবরাহ উভয়ই মূল্যায়ন করা যায়।
- CT Scan: সার্জারির পরিকল্পনার জন্য।
চিকিৎসা পদ্ধতি
১. প্লাস্টার/ক্যাস্ট: যেসব ফ্র্যাকচার স্থির আছে সেক্ষেত্রে ৮–১২ সপ্তাহ প্লাস্টার দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
২. অস্ত্রোপচার: নিচের ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন:
- হাড়ের টুকরো সরে গেলে।
- কব্জির কাছাকাছি ফ্র্যাকচার (যেখানে রক্ত সরবরাহ কম)।
- যারা দ্রুত কাজে ফিরতে চান।
- প্লাস্টারে সারেনি এমন ক্ষেত্রে।
অপারেশনে একটি বিশেষ স্ক্রু (Herbert Screw) হাড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে টুকরো জোড়া লাগানো হয়। প্লাস্টারের তুলনায় অনেক দ্রুত কাজে ফেরা যায়।
অবহেলা করলে কী হয়?
চিকিৎসা না হলে হাড় জোড়া লাগে না (Non-union) এবং পরবর্তীতে হাড় মরে যাওয়া (AVN) ও কব্জির আর্থ্রাইটিস হতে পারে যা আজীবনের ব্যথার কারণ হয়।
কব্জিতে পড়েছেন এবং ব্যথা যাচ্ছে না?
অপেক্ষা করবেন না। ডা. বিনয় পি এস-এর সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত সঠিক পরীক্ষা করান।
এখনই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন